নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক আদালত স্থাপনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং বেসরকারি খাতের আস্থা আরো দৃঢ় হবে।
গত ২৪ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে তার সুপ্রিম কোর্ট কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন ডিসিসিআই সভাপতি।
সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশে অর্থঋণ আদালত এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন–২০০১ থাকলেও দুর্বল বাস্তবায়ন, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও সীমিত কাভারেজের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি অনুমোদিত কমার্শিয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স– ২০২৫ দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষ ও দ্রুত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রধান বিচারপতির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।
ডিসিসিআই সভাপতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বিচারিক কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। এসব পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি মত দেন।
ডিসিসিআই সভাপতির বক্তব্যের জবাবে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইনে রূপ দিতে হলে বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
এর সঠিক বাস্তবায়ন দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে।
তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ডিসিসিআইর যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় বেসরকারি খাতের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ঢাকা চেম্বারের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধান বিচারপতি।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এএইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।












