অনলাইন ডেস্ক:
ফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া নিত্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতারকচক্রগুলো তৈরি করেছে বেশ কিছু কল সেন্টার, যাদের কাজ সহজে প্রতারণা করা যাবে, এমন মানুষদের কল দেওয়া। প্রতারকরা কণ্ঠ নকল করে অথবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। তাদের কল চেনা সবার জন্য সহজ নয়।
প্রতারকদের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাজ্যের মোবাইল অপারেটর ‘ওটু’ স্ক্যামারদের ঠেকাতে একটি এআই টুল তৈরি করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ’ডেইজি’। তার কাজ, প্রতারকদের কল ধরে তাদের সময় নষ্ট করা।
এআই টুলটি বয়স্ক মহিলার কণ্ঠে কথা বলতে পারে। অনেকেই তাকে ডাকছেন ‘এআই দাদু’। যুক্তরাজ্যে বয়োজ্যেষ্ঠরাই সবচেয়ে বেশি ফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন। তাই প্রতারকদের জন্য চমৎকার টোপ হিসেবে ডেইজিকে তৈরি করা হয়েছে।
মোবাইল অপারেটর ’ওটু’ মেশিন লার্নিংয়ের সাহায্যে ফোন কলের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারকচক্রের ব্যবহৃত নাম্বারের তালিকা তৈরি করেছে। তালিকাভুক্ত কোনো নাম্বার থেকে কল এলেই ডেইজি রিসিভ করবে। প্রতারকের সঙ্গে কথোপকথন চালাতে থাকবে।
একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই তাদের করা প্রশ্নের জবাব দেবে। কুশল বিনিময়ের পর তার পরিবার, শখ ও নানাবিধ বিষয় সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে প্রতারকের সময় নষ্ট করতে থাকবে।
প্রতারকরা যদি ব্যাংক সম্পর্কিত তথ্য চায় তাহলে ডেইজি ভুয়া তথ্য দেবে। এভাবে উল্টো প্রতারকই হয়রানির শিকার হবে ডেইজির হাতে। টানা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে প্রতারকদের সঙ্গে কথোপকথন চালাতে পারে ডেইজি। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এভাবেই প্রতারকদের কল রিসিভ করছে ডেইজি। গ্রাহকরা থাকছেন সুরক্ষিত।
ডেইজিকে তৈরি করার জন্য তারা একাধিক এআই মডেল ব্যবহার করেছে। ইউটিউবার জিম ব্রাউনিংয়ের ভিডিওর সাহায্যে ডেইজিকে প্রতারকদের জন্য কিভাবে টোপ ফেলতে হয়, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তার চ্যানেলে বিভিন্ন ধরনের প্রতারকদের সম্ভাব্য প্রতারণা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে সচেতনতামূলক ভিডিও বানান জিম ব্রাউনিং। ডেইজি টুলটি প্রতারকের কলকে টেক্সটে রপান্তরিত করে এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করে উত্তর দেয়। কলের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে স্ক্যামার শনাক্ত করে এবং ব্লক লিস্টে নাম্বার যুক্ত করে। মোবাইল অপারেটটি তাদের গ্রাহকদের প্রতারকের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে এআই প্রযুক্তিতে বড়সড় বিনিয়োগ করেছে। প্রতারকদের অভিনব পদ্ধতিতে সাজা দেওয়ার এই পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্রিটিশ এআই বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন। ডেইজির মতো এআই টুল ফোনে কলে প্রতারণার হার কমাতে পারবে বলেই তাদের ধারণা।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল ডেইজির মতো একই কাজ করে এমন চ্যাটবট তৈরি করেছে। চ্যাটজিপিটি এর টেক্সট জেনারেশন প্রযুক্তির সঙ্গে ভয়েস ক্লোনিং সিস্টেম যুক্ত করে তারাও তৈরি করেছেন কথোপকথন চালাতে পারে এমন চ্যাটবট। সেটিও প্রতারকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বাসযোগ্য কথোপকথন চালাতে সক্ষম। যদিও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত এহেন চ্যাটবট ডেইজিই প্রথম।










