মীর মেহেদী হাসান :
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে সাংবাদিকতা এক নতুন মোড় নিয়েছে। যেখানে একসময় মূলধারার গণমাধ্যমগুলো তথ্য সরবরাহের প্রধান উৎস ছিল, সেখানে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, তথ্যের এক বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সাথে সাথে পেশার মর্যাদা ও নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ফেসবুক সাংবাদিকতার জয়জয়কার
আজকাল সমাজের প্রায় সব স্তরেই ‘ফেসবুক সাংবাদিক’দের বিচরণ। এরা মূলধারার গণমাধ্যমের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন তৈরি করেন, অনুষ্ঠানে অংশ নেন, এবং নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায় করেন। তাদের লেখায় তথ্যের চেয়ে বেশি থাকে ব্যক্তিগত পক্ষপাত এবং বানান ও ব্যাকরণের ভুল। এসব লেখা কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে জায়গা না পেলেও ফেসবুকে ঠিকই হাজার হাজার ‘লাইক’ আর ‘শেয়ার’ পায়।
এরা সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে দাওয়াত খাওয়া, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এবং সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা যেন তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের আনুগত্যের পরিবর্তনও চোখে পড়ার মতো। এই ধরনের আচরণকে সাংবাদিকতার মূল আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করেন অনেকেই।
পেশাদারিত্বের সংকট
যারা সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা করতে চান, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। যখন সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা, তখন এই পেশা কিছু মানুষের কাছে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন এবং প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের কার্যকলাপ সাংবাদিকতার পবিত্রতাকে নষ্ট করছে। সৎ সাংবাদিকরা তখন নিজেদেরকে ‘অকর্মা’ ভাবতে বাধ্য হন, কারণ তারা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বা চাটুকারিতা করতে পারেন না।
অভিশাপের বোঝা
সাংবাদিকতা যখন শুধুমাত্র একটি জীবিকা না হয়ে একটি নৈতিক দায়িত্ব হয়, তখন তার মান ক্ষুন্ন হলে তার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা গভীর হতাশা অনুভব করেন। সততার সাথে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য এটি একটি অভিশাপের মতো মনে হতে পারে, কারণ তারা এক এমন পেশার অংশ, যা কিছু মানুষের অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে কলঙ্কিত হচ্ছে। এই ‘অভিশাপের বোঝা’ বয়ে বেড়ানো তাদের জন্য এক কঠিন মানসিক সংগ্রাম।
গণমাধ্যমের এই অবক্ষয় রোধ করা এখন সময়ের দাবি। সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা না গেলে এই পেশা তার সম্মান ও মর্যাদা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবে। সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মান ফিরিয়ে আনার জন্য সমাজের সর্বস্তরের সচেতনতা এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
আপনার অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে। আশা করি এটি আপনার মনের কথা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।












