আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ভেতর ও বাহির থেকে সাইবার হামলা ও এআই প্রোপাগান্ডা চালানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মানির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিএসআইয়ের প্রধান ক্লাউডিয়া প্লাটনার সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জার্মানির ভেতরে ও বাইরে এমন কিছু শক্তি আছে, যারা নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় হামলা ও গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলাকে ব্যাহত করতে আগ্রহী।’
এদিকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি নভেম্বরে সতর্ক করে বলেছে, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের পটভূমিতে জার্মানির নির্বাচনকে নিজের পক্ষে প্রভাবিত করার জন্য রাশিয়ার সম্ভবত সবচেয়ে বড় ও সুস্পষ্ট আগ্রহ রয়েছে।
এ ছাড়া জার্মানির ভেতরে থাকা শক্তিও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইওসেফ লেনটশ। তিনি জানুয়ারির শেষে বার্লিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পলিটিকাল টেক সামিট কনফারেন্সের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, জার্মানির চরম ডানপন্থী দল এএফডি বেশ কয়েক বছর ধরে ‘বিকল্প ডিজিটাল অবকাঠামো’ গড়ায় কাজ করছে। সে কারণে তারা এই বিষয়ে জার্মানির প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর চেয়ে প্রায় এক দশক এগিয়ে আছে।
রুমানিয়ার উদাহরণ
সম্প্রতি রুমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে কালিন জর্জেস্কুর জয় সবাইকে অবাক করেছে। চরম ডানপন্থী এই নেতা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থক।
তবে ৬ ডিসেম্বর সেই ফল বাতিল করে দিয়েছেন সাংবিধানিক আদালত। প্রেসিডেন্ট ক্লাউশ ইয়োহানিস বেশ কিছু গোপন নথি প্রকাশ করার পর এই রায় দেওয়া হয়।
এতে দেখা যায়, জর্জেস্কুর পক্ষে প্রচারণা চালাতে রাশিয়া টিকটক ও টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেছিল। লেনটশ বলেন, ‘রুমানিয়া ইইউর সদস্য। সেখানে যেটা ঘটেছে সেটা জার্মানিসহ অন্য যে কোথাও হতে পারে।’
‘এআই প্রপাগান্ডা’ বাড়ছে
বার্লিনের থিংক ট্যাংক জার্মানি কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সেন্টার ফর জিওপলিটিকস, জিওইকোনোমিকস অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক কাটিয়া মুনোৎস বলেন, জার্মানিতে কোনো দল এএফডির মতো এত বড় ‘ডিজিটাল অবকাঠামো’ গড়ে তোলেনি।
তিনি আরো বলেন, এআই দিয়ে প্রার্থী ও দলগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য আগের চেয়ে দ্রুত টেক্সট, ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারছে।
এ ক্ষেত্রেও এএফডি অন্য দলগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ইইউ নির্বাচন ও জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচন নিয়ে গবেষণা করার অভিজ্ঞতা থেকে এই তথ্য দিয়েছেন মুনোৎস।
গত সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এএফডির ৭৮ সেকেন্ডের এক ভিডিওর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিডিওটি হয়তো ভুল নয়, তবে বিভ্রান্তিকর ছিল। ভিডিওতে নীল চোখের মানুষ ও অশ্বেতাঙ্গদের মধ্যে তুলনা করতে দিয়ে অশ্বেতাঙ্গদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সমাধান
সাইবার হামলা থেকে রক্ষা পেতে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তারা সাইবার হামলার হুমকি পর্যবেক্ষণ করবে। এ ছাড়া প্রার্থী ও দলগুলোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার কৌশল শেখানো হবে। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও এআই দিয়ে তৈরি প্রোপাগাণ্ডা সম্পর্কে ভোটারদের সচেতন করার পরামর্শ দিয়েছেন মুনোৎস।











