দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখা যাইতেছে সেই জুলাই-আগস্ট এর স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর থেকেই। নানান জনের নানান দিক থেকে দোষারোপ করার মধ্য দিয়েই বিষয়টি এগিয়ে যাচ্ছে। কেও বলতে চাইছে এটা পরাজিত অপ শক্তির বৃহৎ ষড়যন্ত্রের একটা অংশ!
কেও আবার বলছে, সরকারের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ, কেও দায়ী করছেন পুলিশ বাহিনীর নিস্ক্রিয়তাকে।
আমরা জানি, মানুষ মাত্রই অপরাধ প্রবন। তাই দায়ীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযত শাস্তি দেয়ার মাধমে সমাজে অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব। পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতার মাধমেও অপরাধ কমানো সম্ভব।
আইন আদালতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই যদি দুরনিতিগ্রস্থ দুর্নীতিগ্রস্থ হয়, তবে ভালো ফল আশা করা অসম্ভব।
আমরা জানি, বাংলাদেশের সকল প্রশাসন ক্রমেই দুর্নীতির মহা সমুদ্রে ধাবমান। এর সুবিধা নেয়ার লোকের সংখ্যা নেহায়েতই কম। বঞ্ছিতের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। এই বঞ্ছিতরাই অপশাসনের বিরুদ্ধে গণজোয়ার কে পুঁজি করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতার বদল ঘটিয়েছে। এই ক্ষমতা হারানো অপশক্তির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে ঠিকই কিন্তু রয়ে গেছে প্রেতাত্মা। এরা প্রশাসনের প্রতিটা কোনায় রয়ে গেছে। এরা জনগনের রক্ত চোষা হায়না। এদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জনগণের সেবা করার জন্য, কিন্তু এরা কখনই জনগণের সেবা করে না। এদের পকেট ভারি করার জন্য যে কোন কাজই এরা করে থাকে। পুলিশ, আইন-আদালত সহ দেশের সকল সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানই গভীর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর। কিন্তু তারা নিজের স্বার্থ ছাড়া কোন কাজ করে না। তারা উৎকোচ পেলে যে কোন খারাপ কাজ করবে আর ভালো কাজ করাতে গেলেও টাকা লাগবে। তারা চায় অবারিত ক্ষমতা। এই ক্ষমতা বিগত স্বৈরাচারী সরকার তাদের দিয়েছিল। বিনিময়ে পেয়েছিল সরকার বিরোধী যে কোন আন্দোলনকে অত্যন্ত অমানবিক ভাবে দমন করার প্রতিশ্রুতি। সেই ধারাবাহিকতা এখন কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই সরকারকে, জনগণকে কিছুই দিতে চাইছে না। তবে তারাও মানুষ, তাদের ভিতরেও মনুস্বত্ব আছে, আছে মানবতা, তাই কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়ার চাপে পরে এবং লোক দেখানোর অভিনয় করতে গিয়েও হঠাৎ ভালো কাজ করে বসে। যেটা সমাজে কোন প্রভাবই ফেলে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণকে যদি শান্তিতে রাখতে হয়, প্রশাসনে দুর্নীতি বিরোধী বিশেষ অভিযান প্রচালনা করতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্থদেরকে বিদায় করতে হবে। অবৈধ অর্থ নিয়ে দেশের কোযাগারে দিতে হবে। সততার সাথে যারা কাজ না করতে পারবে, তারা চাকুরীতে থাকতে পারবে না। পুলিশ বাহিনী হবে সুপারম্যান। অপরাধীদের দুষমন। দেশে হাজারো বেকার যুবক রয়েছে, যারা দেশকে ভালোবাসে। পুলিশ বাহিনীতে সততার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। চাকুরীতে নিয়োগ দেয়ার সময়ই তাদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে হবে কোন প্রকার অন্যায় কাজ করা যাবে না। করলে চাকুরি থাকবে না। আর কোন অফিসারের দুর্নীতি ধরিয়ে দিতে পারলে, আর্থিক পুরস্কার ও পদন্নতি দেয়া হবে।











